বগুড়ায় নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০১:৫৮
বগুড়ায় নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক

বগুড়া সদর উপজেলার মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তানজিলা ইয়াসমিন দীপা (২৫) নামে এক নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পুলিশ মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত তানজিলা বগুড়া সদর উপজেলার নারুলী আনন্দপাড়া এলাকার খয়বর প্রামানিকের মেয়ে। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে সম্প্রতি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ করেছিলেন।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তানজিলার প্রথম বিয়ে হয়। ওই সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত মে মাসে সর্বশেষ যোগাযোগে তিনি জানিয়েছিলেন, রংপুরে একটি এনজিওতে তার চাকরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকার শেখ আবীদ উল সানির সঙ্গে তানজিলার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর তারা মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় সোহেল আল মাসুদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

মঙ্গলবার বিকেলে আবীদ উল সানি প্রতিবেশীদের জানান, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং তিনি পুলিশে খবর দিতে যাচ্ছেন। এরপর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান। রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের বোন সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় স্বামী শেখ আবীদ উল সানিসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, প্রলোভন ও পরকীয়ার কারণে প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তানজিলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তার হাঁটু মেঝেতে লাগানো ছিল এবং বাঁ হাতের কবজিতে কাটা দাগ ছিল।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। মরদেহের হাতে কাটা দাগ এবং ঘরের মেঝেতে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।