বগুড়ায় স্ত্রীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আগাম জামিন চাইতে আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সদস্যকে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক আসামি মো. মামুনুর রশিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল মো. মামুনুর রশিদ (বিপি নং-৯৮১৮২২৪৪৯৪) বর্তমানে ডিএমপিতে কর্মরত। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলারতাইড় গ্রামের মৃত আব্দুল হানিফ (ঘেতু)-এর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারী উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই মামুনুর রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে মৌসুমীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গুহাটী গ্রামের লাবনী খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পরও প্রথম স্ত্রী সংসার করতে চাইলে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মৌসুমী আক্তার ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মামুনুর রশিদ ছাড়াও তার ভাই মিলন মিয়া, লাবনী খাতুন, মিনি বেগম ও শাকিল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে আদালত অন্য চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাই জামিনের জন্য আদালতে এসে মামুনুর রশিদ সেখান থেকে চলে যান। পরে বুধবার পুনরায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী মৌসুমী আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ দেন এবং যৌতুক না পেয়ে তাকে নির্যাতন করেন। এছাড়া তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। নির্যাতন ও হুমকি সহ্য করতে না পেরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তবে এ অভিযোগগুলো মামলার অভিযোগের বাইরে এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।