বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বদলি আদেশ কার্যকর না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দাপ্তরিক জটিলতা। বদলির ২১ দিন পার হলেও দায়িত্ব হস্তান্তর (চার্জ) না হওয়ায় একই পদে দুই কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ আগস্ট শাজাহানপুর উপজেলায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন মো. শাহাবুল ইসলাম। গত ১৩ জুলাই ২০২৬ প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আদেশে তাকে শিবগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মোছা. রোজিনা আক্তার সুমিকে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার সুমি অফিসে উপস্থিত থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ায় নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতাও উত্তোলন করতে পারছেন না। অফিসের নেমপ্লেট ও সম্মাননা বোর্ডেও এখনও বদলিকৃত কর্মকর্তা শাহাবুল ইসলামের নাম রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই দপ্তরে দুই কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন কাজে এসে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের এক কর্মচারীর দাবি, বদলি আদেশ বাতিল বা স্থগিতের চেষ্টা চলছে বলেই দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মো. শাহাবুল ইসলাম বলেন, “সরকারি চেয়ারে যে কেউ বসতে পারেন। তবে আমি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বুঝিয়ে দিইনি। কিছু দাপ্তরিক কাজ শেষ করেই দায়িত্ব হস্তান্তর করব।”
এদিকে দীর্ঘসূত্রতায় সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসন, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সরকারি বদলি আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।