বগুড়ার গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মী এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে এক ইউনিয়নের প্রার্থীকে অন্য ইউনিয়নে নির্বাচিত করা, একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে নির্বাচন এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের স্বজনদের নির্বাচিত করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচিতদের তালিকায় সুখানপুকুর ইউনিয়নের আল আমিনের নাম রয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ১৯২ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।
মোরসেদুল ইসলাম নামে এক অভিযোগকারী দাবি করেন, নেপালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সরুজ্জামানের মেয়ের নামও নির্বাচিতদের তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এক ইউনিয়নের প্রার্থীকে অন্য ইউনিয়নে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই ব্যক্তিকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার—দুই পদেই নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর জামাতা এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের এক অফিস সহায়কের বোন নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন তারা।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আরিফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নির্বাচনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছি। এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।’