নন্দীগ্রামে টিএসপি সারের দাম নিয়ে অভিযোগ, ১,৩৫০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায়! | Daily Chandni Bazar নন্দীগ্রামে টিএসপি সারের দাম নিয়ে অভিযোগ, ১,৩৫০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায়! | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৩৫
নন্দীগ্রামে টিএসপি সারের দাম নিয়ে অভিযোগ, ১,৩৫০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায়!
লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের অভিযান
নন্দীগ্রাম বগুড়া সংবাদদাতাঃ

নন্দীগ্রামে টিএসপি সারের দাম নিয়ে অভিযোগ, ১,৩৫০ টাকার বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায়!

 বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্সবিহীন কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এ ছাড়া কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রামে বিসিআইসির ১৩ জন এবং বিএডিসির ২৩ জনসহ মোট ৩৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। অধিকাংশ ডিলার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করছেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী—এমন তথ্য জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে উপজেলার ৪ নম্বর থালতামাঝগ্রাম ইউনিয়নের ত্রিমহনী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সার বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়াই সার মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা একাধিকবার তাকে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করলেও তিনি তা মানছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

একই ইউনিয়নের সোনাকানিয়া বাজারের সার ডিলার একরাম হোসেনের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সার ডিলার একরাম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই সব ধরনের সার বিক্রি করছি।’

সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা। ডিলার পর্যায়ে এসব সারের দাম যথাক্রমে ২৫, ২৫, ১৯ ও ১৮ টাকা।

কৃষকদের অভিযোগ, ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হলেও টিএসপি সারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও কোথাও কোথাও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখে খোলা বাজারে বিক্রি না করে রাতের আঁধারে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে লাইসেন্সবিহীন ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। গত সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স না থাকা ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে তিন সার ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সারের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, ‘নন্দীগ্রামে সারের কোনো সংকট নেই। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত সার মনিটরিং করছেন। বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে লাইসেন্স না থাকা ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন ডিলারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সব ধরনের রাসায়নিক সার বিক্রির নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, কোনো অসাধু সার ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।