সাহিত্য-সংস্কৃতি, সম্পাদনা ও লোকগবেষণায় নিরন্তর ছুটে চলেছেন ইকবাল কবির লেমন | Daily Chandni Bazar সাহিত্য-সংস্কৃতি, সম্পাদনা ও লোকগবেষণায় নিরন্তর ছুটে চলেছেন ইকবাল কবির লেমন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৫৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি, সম্পাদনা ও লোকগবেষণায় নিরন্তর ছুটে চলেছেন ইকবাল কবির লেমন
আল-মামুনঃ

সাহিত্য-সংস্কৃতি, সম্পাদনা ও লোকগবেষণায় নিরন্তর ছুটে চলেছেন ইকবাল কবির লেমন

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিমণ্ডলে পরিচিত একটি নাম ইকবাল কবির লেমন। লেখক, সম্পাদক, লোকগবেষক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী—বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, ইতিহাস, লোকঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। নীরব অথচ ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
শৈশব থেকেই  সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। সেই আগ্রহই পরবর্তীকালে তাঁকে লেখালেখি, সম্পাদনা এবং গবেষণার পথে নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয় ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং জনপদের নানা অজানা তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করেন।
 
ইকবাল কবির লেমনের অন্যতম পরিচয় একজন সম্পাদক হিসেবে। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা ‘প্রয়াস’ সাহিত্যপ্রেমী ও নবীন-প্রবীণ লেখকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। এই পত্রিকার মাধ্যমে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণাধর্মী লেখা, লোকঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক নানা রচনা প্রকাশিত হয়ে আসছে। অনেক নতুন লেখকও এই পত্রিকার মাধ্যমে নিজেদের সাহিত্যচর্চার সুযোগ পেয়েছেন।
 
লোকগবেষক হিসেবে তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য স্থানীয় ইতিহাস ও লোকঐতিহ্যকে লিপিবদ্ধ করা। দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য, প্রাচীন নিদর্শন, লোকবিশ্বাস সংগ্রহে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি জাতির আত্মপরিচয় রক্ষায় স্থানীয় ইতিহাস ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
সংস্কৃতিকর্মী হিসেবেও তিনি বিভিন্ন সাহিত্যসভা, আলোচনা, আবৃত্তি, বইপাঠ, স্মরণানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি মনে করেন, একটি সমাজকে আলোকিত করতে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকল্প নেই। তাই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
 
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও ইকবাল কবির লেমন সমাজের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন এবং জনমানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর লেখায় যেমন উঠে আসে সমাজবাস্তবতা, তেমনি স্থান পায় মানবিক মূল্যবোধ, ইতিহাসচেতনা এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা।
 
সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর নিবেদন শুধু লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নতুন প্রজন্মকে পাঠাভ্যাসে উৎসাহিত করা, সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় লেখকদের সৃষ্টিশীল কাজে সহযোগিতা করাও তাঁর নিয়মিত উদ্যোগের অংশ।
 
সোনাতলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে ইকবাল কবির লেমনের অবদান অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস সাধনা প্রমাণ করে—নিভৃতে থেকেও সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব।
ইতোমধ্যেই তাঁর ৮ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত বইগুলো হলো- সোনাতলার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে সোনাতলা, নিরলে বিরল পারুল (প্রকৃতি বিষয়ক), কোভিড ১৯: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ,  দুর্ভাবনার দিনগুলি, অদ্ভুত ভূত ( শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ), ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ (শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ) ও প্রেমের মরা (নৃত্যনাট্য)। সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পেয়েছেন দুর্জয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্মাননা, সোনাতলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, আলোকিত সোনাতলা সম্মাননা, আলোর প্রদীপ সম্মাননা, টিজিএসএস সম্মাননা ও প্রভাতের আলো তরুণ সংঘ সম্মাননা।
ভবিষ্যতেও তাঁর গবেষণা, সম্পাদনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় ইতিহাস, সাহিত্য ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।