১ লাখ টাকার ‘আইফোন কিনতে’ বিক্রি করা সেই শিশু অবশেষে উদ্ধার | Daily Chandni Bazar ১ লাখ টাকার ‘আইফোন কিনতে’ বিক্রি করা সেই শিশু অবশেষে উদ্ধার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৩৮
১ লাখ টাকার ‘আইফোন কিনতে’ বিক্রি করা সেই শিশু অবশেষে উদ্ধার
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ

১ লাখ টাকার ‘আইফোন কিনতে’ বিক্রি করা সেই শিশু অবশেষে উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেড় বছরের এক শিশুকে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা লিখিত চুক্তিপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মুচলেকা নিয়ে দেড় বছরের শিশু মুসাকে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মো. মারুফ তার ছেলে মুসাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মারুফ আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে শিশুটিকে রেখে গেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ১০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে তার কাছে দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, আইফোন কেনার জন্যই শিশুটিকে এক লাখ টাকায় দেওয়া হয়। শিশুটিকে সেখানে রেখে মারুফ ঢাকায় চলে যান। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়। পরে অভিযান চালিয়ে রোমানাথসেন গ্রামের ওই বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্বের বিষয় বিবেচনা করে তাকে দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চার বাবা যার কাছে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে দাদা-দাদির কাছে দেওয়া হয়েছে। এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে লিখিত কাগজপত্র পাওয়া গেছে।’

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমরা নাতিকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন নাতিকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে দিয়েছে। এখন আমরা নাতিকে নিরাপদে রাখতে চাই।’