বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল যুবক, রাতভর নির্যাতন | Daily Chandni Bazar বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল যুবক, রাতভর নির্যাতন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:১৫
বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল যুবক, রাতভর নির্যাতন
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল যুবক, রাতভর নির্যাতন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করার অভিযোগ তুলে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবকের ভাই সিমারুল বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছেন। এতে বাড়ির মালিক সদর মন্ডলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়া গ্রামের সদর মন্ডলের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে প্রবেশ করেন ইসরাইল। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বাড়ির সদস্যরা তাঁকে দেখতে পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে ইসরাইল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁর পরনের বোরকা খুলে তিনি পুরুষ বলে নিশ্চিত হন স্থানীয়রা। এরপর তাঁকে রাতভর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনে তাঁর হাঁটু, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে এলাকায় আগেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। সন্দেহ এড়াতে নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও তাঁরা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ওই যুবককে নারীদের পোশাক পরা অবস্থায় চোরের অপবাদ দিয়ে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করেছেন। এতে তাঁর পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে।

ওসি আরও বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই কারণেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। যারা চুরির অভিযোগ করেছেন, তাঁরা চুরির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত দেখাতে পারেননি।

নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই সিমারুল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।