বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার সার গুদামে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরবরাহকৃত সারের ওজনে ঘাটতি এবং নিয়ম না মেনে মেঝেতে সার ঢেলে ময়লা-আবর্জনাসহ রি-ব্যাগিং। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সান্তাহারে বিএডিসি ও বিসিআইসির সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রায় ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার বাফার গুদাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফাটা ও ছেঁড়া বস্তার সার নতুন বস্তায় ভরার সময় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। মেঝেতে সরাসরি সার ঢেলে বাছাই ছাড়াই শ্রমিকদের মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনাসহ পুনরায় বস্তাবন্দি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামের একাধিক শ্রমিক জানান, ফাটা ও ছেঁড়া বস্তার সার মেঝেতে নামিয়ে বেলচা ও ঝাড়ু দিয়ে সংগ্রহ করে নতুন বস্তায় ভরা হয়। এ প্রক্রিয়া নিয়মসিদ্ধ কি না জানতে চাইলে তাঁরা বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
এদিকে গুদামে সরবরাহ করা সারের ওজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তায় কখনো কখনো কম সার পাওয়া গেলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, ওজনে ঘাটতি থাকা সারের সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে সান্তাহার বাফার গুদামের বিসিআইসি ইনচার্জ হাসানুর রহমান হাসান বলেন, মেঝেতে সার ঢেলে মোড়কীকরণের তথ্যটি তাঁদের গুদামের নয়। সার ওজনে কম দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক কে. এম. মাকসুদুল আলম বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে তাঁকে অফিসিয়ালি কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অথবা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিসিআইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।