বগুড়ার শেরপুরে মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে পাশের শাজাহানপুর উপজেলার একটি মুরগির খামারের গুদামে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিদ্যালয় চলাকালে মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় একটি মুরগির খামারের গুদামে তাদের আটকে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের একজনের অভিভাবক শুকুর আলী বলেন, তাঁর ছেলেসহ নয় শিক্ষার্থীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ওই গুদামে আটকে রাখা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আটকের প্রায় আট ঘণ্টা পর দুই শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে গুদাম থেকে বের হয়ে মহিপুর বাজারে আসে। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে অভিভাবক ও স্থানীয়রা গুদামে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ সময় জড়িত কয়েকজন কিশোর সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিভাবকদের দাবি।
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তাকে ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয় থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ইজিবাইকে করে তাদের নয়মাইল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও কয়েকজন কিশোর তাদের গুদামে নিয়ে গিয়ে শাটার বন্ধ করে দেয়। বের হওয়ার চেষ্টা করলে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয় বলেও ওই শিক্ষার্থী জানায়।
শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাদের কোমল পানীয় দেওয়া হয় এবং দুপুরে খাবার দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে খাবার দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন ভঙ্গিতে তাদের মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। বিদেশি কোনো অ্যাপের মাধ্যমে এসব ছবি-ভিডিও কাজে লাগিয়ে প্রত্যেককে ৯০০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর বাবা শুকুর আলী শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, তদন্ত করে নয় শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে গুদামে আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন। যতটুকু জেনেছি, কিছু কিশোর তাদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ছবি তোলে। তাদের বিদেশি কোনো অ্যাপে যুক্ত করলে ৯০০ টাকা করে পাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কীভাবে বাইরে চলে গেল, তা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।