শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা | Daily Chandni Bazar শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৭
শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা
ঢাকা সংবাদদাতাঃ

শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

‘অননুমোদিত’ গুদামে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের দুটি অনুমোদিতসহ চারটি গুদাম সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ যৌথ অভিযান চালিয়ে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়। এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযানে সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) অংশ নেয়। এনবিআর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসংগতি’ পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘টস বন্ড’ একটি ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউজ, যেখান থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল।

এনবিআর বলছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বা ঘোষিত গুদাম রয়েছে দুটি। তবে অভিযানে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ ঠেকাতে এবং তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে। এ ঘটনায় তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কানাডায় নাগরিকত্ব, ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পর্যালোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কানাডা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথিতে সন্দেহজনক লেনদেন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন এবং আন্তদেশীয় অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য। এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তবে এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদাম সিলগালা ও নুর ইসলামের ব্যবসা-সম্পর্কিত অনুসন্ধান সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে শুরু হয়নি; এসব বিষয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।

সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করেন। পরে নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া এ ঘটনায় মামলা করেন।

মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।