সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি | Daily Chandni Bazar সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৬
সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি
স্টেশনপাড়ায় মানুষের ঢল, স্বস্তি ফিরল কয়েক উপজেলার যাত্রীদের
সোনাতলা, বগুড়া সংবাদদাতাঃ

সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি

 দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯/৮১০) ট্রেনের যাত্রাবিরতি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ যাত্রাবিরতির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মানুষের ঢল নামে এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
 
নতুন এই যাত্রাবিরতির ফলে সোনাতলা ও সাঘাটা উপজেলা ছাড়াও গাবতলী, সারিয়াকান্দি, মোকামতলা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান হলো। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবি ছিল সোনাতলা স্টেশনে আন্তঃনগর বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালুর। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেছে।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক লিপন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামাণিক । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সোনাতলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম খাঁন নিপু।
 
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনাতলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক, সোনাতলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাবলা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান হান্নান, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আঞ্জু, শাকিল রেজা বাবলা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল আহমেদ।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল সহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
 
উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথি বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সোনাতলায় আসেন। তিনি ঢাকা থেকেই ওই ট্রেনে ওঠেন এবং সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে এসে ট্রেন থেকে নামেন। পরে সোনাতলা স্টেশনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রেনটিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতদিন বুড়িমারী এক্সপ্রেসে যাতায়াত করতে সোনাতলা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের অন্য স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হতো। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এখন সোনাতলা স্টেশন থেকেই সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
 
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই যাত্রাবিরতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির ফলে সোনাতলার ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকার আশপাশের রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।