শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজ না করেই ফিরলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক | Daily Chandni Bazar শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজ না করেই ফিরলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:০২
শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজ না করেই ফিরলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজ না করেই ফিরলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে। পরিস্থিতির অবনতি ও শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের ৬৭০টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটির বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪টি চালু ছিল।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এ দুই এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে যান। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।

একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে। এসব এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই কারখানাগুলোর ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক কাজ না করেই বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে রাজধানীর মিরপুরে ৩২০টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।

তবে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানাই স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল।

এর আগে রোববারও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় অংশ নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কারখানার কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।