পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় অসুস্থ একটি গরু জবাইয়ের পর প্রায় চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গরুটিকে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। ওষুধের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) শেষ না হওয়ায় মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে গরুটির মালিক খামারি সোহেল ইসলাম সেটি জবাই করেন। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মরিয়ম রহমানের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ সিদ্ধান্তের পর এফএসপি হাবিবুর রহমান এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মাংসগুলো গভীর গর্তে পুঁতে নষ্ট করা হয়।
গরুর মালিক খামারি সোহেল ইসলাম বলেন, গরুটি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসা চলছিল। রোববার রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় নিজের খাওয়ার জন্য গরুটি জবাই করেন। এটি বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, সোমবার সকাল ৬টার দিকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ গরু হওয়ায় তিনি সেটি কিনতে রাজি হননি। পরে সকালে জানতে পারেন, মালিক নিজেই গরুটি জবাই করেছেন। এরপর তাঁর লোকজন গিয়ে গরুটির চামড়া ছাড়িয়ে দেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, গরুটি অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাংস নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।