প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০৪

সৌদিতে বিমান হামলায় নিহত বগুড়ার সাহেদ, পরিবারে শোকের ছায়া

সঞ্জু রায়, বগুড়া:
সৌদিতে বিমান হামলায় নিহত বগুড়ার সাহেদ, পরিবারে শোকের ছায়া
সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫)। ছবি- সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বগুড়ার সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তাইফুর রহমান।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার বিকেলে আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তার মধ্যে বগুড়ার সাহেদ আহমেদ আশিকও নিহত হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাহেদ ৩ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। তার মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। সাহেদের স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা বলেন, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তার ভাই। রিয়াদ হয়ে তার কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। মাসুম রানা বলেন, রিয়াদে পৌঁছানোর পর ভাবির সঙ্গে ভাইয়ের সর্বশেষ কথা হয়। তখন সাহেদ জানিয়েছিলেন, তিনি রিয়াদে পৌছেছেন। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এরপর ফোন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সরকারের কাছে তার ভাইয়ের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে নিহতের স্ত্রী কাকলী বেগম এখনো জানেন না তার স্বামী বেঁচে আছেন কিনা। সৌদিতে তার শ্বশুর ও শাশুড়ি ভালো থাকলেও তারা এখনো তাকে নিশ্চিত করেনি তার স্বামী কেমন আছেন? কাকুলি বেগম জানান, তার স্বামী দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু সৌদিতে যুদ্ধের খবর শুনে চাকরি বাঁচাতে এক মাসের ছুটি শেষেই কর্মস্থলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তার স্বামী যদি সত্যিই মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তার স্বামী তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত হতে না পারলেও ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা সাহেদের নিহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ওমরা করতে যাওয়া সাহেদের মায়ের সাথে সৌদিতে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল তার। কিন্তু মা বাবার সাথে সেই সাক্ষাৎও করতে পারেননি সাহেদ। সাহেদের পরিবারে স্ত্রী ও তার দুটি ৯ বছর ও ৪ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। বাবাকে হারিয়ে সন্তান দুটি সম্পূর্ণ এতিম হয়ে গেলো। তিনি বগুড়ার সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিহত সাহেদের পরিবার ও তার দুই এতিম সন্তানের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আকুল আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তাইফুর রহমান বলেন, অফিসিয়াল কোন চিঠি না পেলেও ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তারা সাহেদ আহম্মেদের নিহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই নিহতের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। বাকি সকল আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথি জনগোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

 

উপরে