সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া| সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ঘোষণা করেন| এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর|
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন| সেখানে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন| এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন|
ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ ˆতরি হয়| বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে| দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন|
বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত| ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র| কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, ¯^াস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা| সেই তুলনায় নগর সেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের|
১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান| পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়| ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়| এরপর থেকেই এটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে|
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ ˆতরি হবে| একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও|
তবে শুধু ঘোষণায় উন্নয়ন হবে না বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা| তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে|
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ ˆতরি হবে| এতে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে|
বগুড়াবাসীর কাছে সোমবারের দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবেই ধরা দিচ্ছে| এখন দেখার বিষয়, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিচয়ে কত দ্রুত বদলে যায় উত্তরাঞ্চলের এই ব্যস্ত শহর|
এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বগুড়ার সার্কিট হাউজে পৌঁছান| দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং আদালতের ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন|
