প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৫৪

‘বিভ্রান্তকারীদের অতীত বিবেচনা করে চোখে চোখে রাখতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বিভ্রান্তকারীদের অতীত বিবেচনা করে চোখে চোখে রাখতে হবে’

কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, এরা অতীতে কী করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল। আমরা দেখেছি ছিয়াশিতে তাদের ভূমিকা কী ছিল। আমরা দেখেছি ছিয়ানব্বই সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপিসহ বিএনপির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছেন, যারা জনগণকে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের আমরা বিগত ১৭ বছর রাজপথে দেখিনি।’

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে এরা সংস্কারের কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন সংস্কার নিয়ে? এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের যে ভাতা, সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বেকার যুবক ও তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি, বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব, বাংলাদেশকে তমুক দেশের মতো বানিয়ে ফেলব। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করতে চাই।’

তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা ও সহায়তা পাবে এবং প্রত্যেক মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য অধিকার পাবে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তারা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের পেছনে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বৃত্তির আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমানসহ অন্যরা।

উপরে